Friday, April 3, 2020

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা

প্রেম

অবশ্য রোদ্দুরে তাকে রাখবো না আর
ভিনদেশি গাছপালার ছায়ায় ঢাকবো না আর
তাকে শুধুই বইবো বুকের গোপন ঘরে
তার পরিচয়? মনে পড়ে মনেই পড়ে।

চিরটাকাল সঙ্গে আছে―জড়িয়ে লতা
শাখার, বাহুর নিমন্ত্রণকে ব্যাপকতা
বলার সময় হয়নি আজো ক্ষেমংকরে―
তার পরিচয়? মনে পড়ে মনেই পড়ে।

গোপন রাখলে থাকবে না আর―বাইরে যাবে
পারলে হৃদয় দুর্বলতা দেশ জ্বালাবে
মিছেই আমায় জব্দ করে
তার পরিচয়? মনে পড়ে মনেই পড়ে।

কাব্যগ্রন্থ : ধর্মে আছো জিরাফেও আছো
প্রকাশকাল : আশ্বিন, ১৩৭২
――――――――――――――――――――

মনে পড়লো

মনে পড়লো, তোমায় পড়লো মনে
                        বাঁশি বাজলো হঠাৎই জংশনে
লেভেল-ক্রশিং―দাঁড়িয়ে আছে ট্রেন
                        এখন তুমি পড়ছো কি হার্ট ক্রেন ?

দেড়শো মাইল পেরিয়ে গেলাম কাছে
                        বললে তুমি, এমন করলে বাঁচে
ঐ সামান্য বিদ্যাদানের টাকা !
                        সত্যি, পকেট―ইঁদুর বাদে, ফাঁকা।

এমন সময় বুদ্ধি দিলে ভারি
                        বসেছিলাম চাঁদের আড়াআড়ি
বললে, এই যে―রাখো তোমার কাছে। 
                        তোমার ছবি আমার বাক্সে আছে।

মনে পড়লো, তোমায় পড়লো মনে
                        বাজলো বাঁশি হঠাৎই জংশনে
লেভেল-ক্রশিং―দাঁড়িয়ে আছে ট্রেন
                        অনাবশ্যক পড়ছো কি হার্ট ক্রেন ?

কাব্যগ্রন্থ : ধর্মে আছো জিরাফেও আছো
প্রকাশকাল : আশ্বিন ১৩৭২
――――――――――――――――――――

যখন বৃষ্টি নামলো

বুকের মধ্যে বৃষ্টি নামে, নৌকা টলোমলো
কূল ছেড়ে আজ অকূলে যাই এমনও সম্বল
সেই নিকটে― হয়তো ছিলো বৃষ্টি আসার আগে
চলচ্ছক্তিহীন হয়েছি, তাই কি মনে জাগে
পোড়োবাড়ির স্মৃতি? আমার স্বপ্নে-মেশা দিনও?
চলচ্ছক্তিহীন হয়েছি, চলচ্ছক্তিহীন।

বৃষ্টি নামলো যখন আমি উঠোন-পানে একা
দৌড়ে গিয়ে ভেবেছিলাম তোমার পাবো দেখা
হয়তো মেঘে-বৃষ্টিতে বা শিউলিগাছের তলে
আজানুকেশ ভিজিয়ে নিচ্ছো আকাশ-ছেঁচা জলে
কিন্তু তুমি নেই বাহিরে― অন্তরে মেঘ করে
ভারী ব্যাপক বৃষ্টি আমার বুকের মধ্যে ঝরে!

কাব্যগ্রন্থ : ধর্মে আছো জিরাফেও আছো
প্রকাশকাল : আশ্বিন ১৩৭২